ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে সাভারের তালবাগ এলাকায়। জানাগেছে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের গোয়াশাল গ্রামের আনসার আলী শেখের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ার শেখ তার ছোট স্ত্রী ময়নাকে নিয়ে বসবাস করে আসছিল সাভারের তালবাগ এলাকার ইউসুফ মাষ্টারের বাড়িতে। আনোয়ারের সাবেক স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক নেই প্রায় ৫ বছর যাবৎ। সে এখন গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছে। এই ঘরে আনোয়ারের তিন সন্তান।
তারা হচ্ছেন রতন হোসেন (১৭), মো: রানা (১২) ও বাদশা (৭)। এদের ভরন পোষন দিতনা আনোয়ার। বড় ছেলে রতন ও ছোট ছেলে বাদশা থাকতো সিরাজগঞ্জে দাদার বাড়িতে। মেঝ ছেলে রানা মায়ের সাথে গাজীপুরে বসবাস করে আসছিল।গত ১০-১২ দিন আগে গোয়াশাল গ্রাম থেকে আনোয়ারের ছোট ছেলে বাদশাকে অভাবের তাড়নায় তাঁর আত্মীয়-স্বজনেরা পাঠিয়ে দেয় আনোয়ারের সাথে। এরপর সাভারে এসে শিশু বাদশা তার বাবা ও সৎ মায়ের সাথে একই ঘরে বসবাস করে আসছিল। এ নিয়ে আনোয়ার ও ময়নার মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়।
আজ সকাল ৭ টার আগে শিশু বাদশাকে ঘরে রেখে বাবা ও সৎ মা চলে যায় পোশাক কারখানায় কাজ করতে। ঘন্টা কয়েক পর বাবা আনোয়ার বাইরে থেকে এসে দেখে তার ছেলে বাদশা লাশ হয়ে বিছানায় পরে আছে।
এ ঘটনায় সাভার মডেল থানা পুলিশ নিহত শিশুটির সৎ মা ময়নাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। শিশুটির লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আনোয়ার শেখের বড় ছেলে রতন এ প্রতিবেদককে জানায়, এক সময় সেও বাবা ও সৎ মায়ের কাছে থাকতে এসেছিল। কিন্তু , সৎ মায়ের অত্যাচারে সে চলে যেতে বাধ্য হয়। তার ছোট ভাই বাদশাকে গত দূর্গা পুজার কয়েকদিন আগে অভাবের তাড়নায় বাবার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার সৎ মা প্রতিহিংসা বশত: বাদশাকে হত্যা করতে পারে বলে সে ধারনা করছে।
আনোয়ারের প্রতিবেশী সালেহা খাতুন বলেন, বাদশা সুস্থ এবং ভাল একটি ছেলে।
সে যখন মারা যায় তখন বাড়িতে সব কটি কক্ষে কোন ভাড়াটিয়া ছিলনা। নির্জনতা পেয়ে ঐ মহিলাই শিশুটিকে হত্যা করেছে। নিহত বাদশার বাবা আনোয়ার শেখ জানান, ছোট ছেলেকে বাসায় আনার পর রাতে সে আমার গলা ধরে ঘুমাতে চাইতো। এ নিয়ে আমাদের ঝগড়া হতো। কিন্তু, আমার ছোট স্ত্রী আমার সন্তানকে মেরেছে কিনা তা আমি জানিনা। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন,
নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনার সর্বোচ্চ তদন্ত করছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে বিষয়টি হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু। তবে, পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যেহেতু সুরতহাল রিপোর্টের সময় শিশুটির মুখে ফেনা দেখা গিয়েছে, সেহেতু তাকে কিছু খাইয়ে হত্যা করা হতে পারে























































